সারহুল পার্বন উদযাপন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

Share on your site

🙏  গড় লাগি 🙏 

সারহুল পার্বন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সারহুল পার্বন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘হামনিক্যের সংস্কৃতি, হামনিক্যের পরিচয়’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নেচে গেয়ে নওগাঁর পত্নীতলায় পালিত হয়েছে ওরাওঁ জনজাতির সারহুল উৎসব ২০২৫ইং।

রবিবার (১১মে) দিনব্যাপী নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা এবং পত্নীতলা ও নওগাঁ জেলা আদিবাসী সমাজের সার্বিক সহযোগিতায় ,বাংলাদেশ ওরাওঁ কালচার ফোরাম (ওরাওঁ বিডি) আয়োজিত এই দ্বিতীয়তম বর্ষবরণ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তৃতা রাখেন নওগাঁ জেলা প্রসাক (ডিসি) মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল।  পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মোঃ আলীমুজ্জামান মিলন।

অনুষ্ঠানে ওরাওঁ সম্প্রদায়ের মানুষরা নেচে গেয়ে প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন এবং তাদের রিতি অনুযায়ী পা ধৌত করে দেন। পরে অতিথিরা আসন গ্রহন করলে তাদের ব্যাচ পরিধান করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাদল বাজিয়ে দলীয় নৃত্য ও তাদের নিজস্ব ভাষার গান পরিবেশন ও সারহুলকে কেন্দ্র করে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক যোগেন্দ্র নাথ সরকার।  আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ক্লেমেন্ট তির্কী ওরাওঁ গবেষক ও চিন্তাবিদ।

কেন্দ্র কমিটি সভাপতি: রনি কান্ত তির্কী ও হেমন্ত কেরকেটা’র সভাপতিত্ব (পত্নীতলা) এবং রিপন তির্কী ও মানিক এক্কা’র সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া, আদিবাসী , দীপংকর লাকড়্, ,সুধীর তির্কী
নিরেন চন্দ্র খালকো, কল্যাণী মিন্জী, বিপেন্দ্র নাথ মিন্জী,ডঃ স্বপন খালকো,বাবুলাল টপ্য, রামলাল কেরকেটা,বিষয় তিগ্যা সহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোত্রের মানুষ, সাংবাদিক ও সুধিজন প্রমূখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় এই উৎসবে গ্রামবাসীরা পূজা করেন এবং এই দিনে চাষ করা নিষিদ্ধ। এই উৎসবের এক দিন আগে গ্রামবাসীরা উপবাস করেন। তরুণ-তরুণীরা পাশের বন থেকে শাল ফুল সংগ্রহ, কাঁকড়া ও মাছ ধরে থাকেন।

উৎসব উপলক্ষে গ্রামবাসী ঢোল, নাগারা ও মাদল বাজাতে বাজাতে অর্চনা করেন ও শাল গাছের পূজা করেন। শালাই বা শাল গাছের ফুলকে দেবতাদের নিবেদন করা হয়। গ্রামের পুরোহিত-পূজারীরা বর্ষবরণ উপলক্ষে গ্রামের সৌভাগ্যের জন্য শাল ফুল, ফল, সিঁদুর, তিনটি মোরগ গ্রাম দেবতাকে বলি দেন।

তাদের পূর্বপুরুষদের আত্মাকে খাবার নিবেদন করার পরই তারা খাবার খান। তারপর গান, ঢোল, নাগারা ও মান্দার তালে গ্রামবাসীরা উৎসবে মেতে উঠেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *